কারক

- বাংলা - বাংলা ভাষা (ব্যাকরণ) | NCTB BOOK
2.9k

'কারক' শব্দের অর্থ- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে কারক" হলো – (কৃ + ণক)। ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন উপকরণ অর্থাৎ ব্যাক্তি,স্থান,কাল প্রভৃতির দরকার হয়।এদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের যে সম্পর্ক তাকেই কারক বলে। সুতরাং বলা যায়—বাক্যের অন্তর্ভুক্ত ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের যে প্রত্যক্ষ সম্বন্ধ তাকে কারক বলে।

কারকের প্রকারভেদ

ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের যে প্রত্যক্ষ সম্বন্ধ তা ছয় প্রকারের হতে পারে। যেমন- রাষ্ট্রপতি ঢাকায় রাজকোষ থেকে নিজ হাতে গরিবদেরকে অর্থ প্রদান করছেন। বাক্যটি বিশ্লেষণ করলে ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের ছয় প্রকার সম্পর্ক বেরিয়ে আসে।

  • কে দান করছেন?- রাষ্ট্রপতি (কর্তৃকারক)
  • কি দান করছেন? – অর্থ (কর্মকারক)
  • কিসের দ্বারা দান করছেন? – নিজ হাতে (করণকারক)
  • কাকে দান করছেন?— গরিবদেরকে (সম্প্রদান কারক )
  • কোথেকে দান করছেন?- রাজকোষ থেকে (অপাদান কারক)
  • কোথায় দান করছেন?- ঢাকায় (অধিকরণ কারক।)

রাষ্ট্রপতি, অর্থ, নিজ হাতে, গরিবদেরকে, রাজকোষ থেকে,ঢাকায়- এই ছয়টি পদের সাথে “প্রদান করছেন” ক্রিয়ার বিভিন্ন সম্পর্ক রয়েছে। এভাবে ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের ছয় প্রকারের সম্পর্ক হতে পারে। তাই কারক ছয় প্রকার। যথা—

১. কর্তৃকারক
২. কর্মকারক
৩. করণকারক
৪. সম্প্রদান কারক
৫. অপাদান কারক
৬. অধিকরণ কারক

বাংলা ব্যাকরণে কারক সম্বন্ধে ব্যাকরণবিদগণের মধ্যে বিতর্ক আছে। রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী বাংলায় মাত্র তিনটি- কর্তা, কর্ম ও অন্য একটি কারকের কথা বলেন। যতীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় কর্তা ও কর্ম ছাড়া অন্য সব কারক স্বীকার করেননি। তবে ‘সম্প্রদান কারক ছাড়া অন্য পাঁচটি কারকের কথা অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ মেনে নিয়েছেন। যেহেতু বাংলা ব্যাকরণ সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণে রচিত; এজন্য আলোচনার সময় সম্প্রদান কারককে বাদ দেয়া হয়নি।

কারকের প্রয়োজনীয়তা

বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়ে থাকে কারকের মাধ্যমেই। মাঝে মাঝে ক্রিয়াপদ ছাড়াও বাক্য গঠিত হতে পারে। যেমন- সে খারাপ ছেলে। এ বাক্যটির মধ্যে ক্রিয়াপদ অনুল্লিখিত রয়েছে। এ উহা ক্রিয়াটি হলো- “হয়”। কারক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এ উহা ক্রিয়াকে বিবেচনা করা হয় না। কারক বাক্যে শব্দের অন্বয় বুঝিয়ে দেয় এবং এতে বাক্যের অর্থ ও গঠন সুস্পষ্ট হয়ে থাকে। এ দিক দিয়ে বিচার করলে কারকের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

পাঁচ প্রকার
চার প্রকার
ছয় প্রকার
সাত প্রকার

কর্মকারক

অধিকরণ কারক

অপাদান কারক

সম্প্রদান কারক

কর্তৃকারক
করণকারক
অধিকরণ কারক
অপাদান কারক
কর্তা কারকে সপ্তমী
কর্ম কারকে শূণ্য
কর্তা কারকে শূণ্য
করণ কারকে শূণ্য
ধ্বনিতত্ত্বে
রূপতত্ত্বে
বাক্যতত্ত্বে
অর্থতত্ত্বে

কর্তৃকারক

4.6k

ব্যাকরণে, বাক্যস্থিত যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ ক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে ক্রিয়ার কর্তা বা কর্তৃকারক বলা হয়।ক্রিয়ার সঙ্গে 'কে' বা 'কারা' যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা কর্তৃকারককে নির্দেশ করে। একে "কর্তাকারক"ও বলা হয়

উদাহরণ: খোকা বই পড়ে। (কে বই পড়ে? খোকা - কর্তৃকারক)। মেয়েরা ফুল তোলে। (কে ফুল তোলে? মেয়েরা - কর্তৃকারক)।

প্রকারভেদ

কর্তৃকারকের বহুবিধ প্রকারভেদ বিদ্যমান।

  • কর্তৃকারক বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চার প্রকারের হয়ে থাকে:
  1. মুখ্য কর্তা: যে নিজে নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে, সে মুখ্য কর্তা। যেমন- ছেলেরা ফুটবল খেলছে। মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।
  2. প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে তা সম্পন্ন করায়, তখন তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমন- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
  3. প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তার করণীয় কাজ যাকে দিয়ে সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলা হয়। যেমন- শিক্ষক ছাত্রদের ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন।
  4. ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে একজাতীয় কাজ সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে। যেমন- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়। রাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।
  • বাক্যের বাচ্য বা প্রকাশভঙ্গি অনুসারে কর্তা তিন রকমের হতে পারে:
  1. কর্মবাচ্যের কর্তা: কর্মপদের প্রাধান্যসূচক বাক্যে বসে। যেমন- পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে।
  2. ভাববাচ্যের কর্তা: ক্রিয়ার প্রাধান্যসূচক বাক্যে বসে। যেমন- আমার যাওয়া হবে না।
  3. কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা: বাক্যে কর্মপদই যখন কর্তৃস্থানীয় হয়। যেমন- বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভালো।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কোদালে মাটি কাটব
জাহাজ চট্টগ্রাম ছাড়ল
সাপের হাসি বেদেয় চেনে
আমারে তুমি রক্ষা করো
ছাগলে কি না খায়
টাকায় টাকা আনে
আরিফ বই পড়ে
ডাক্তার ডাক

মুখ্য কর্তা

1.3k

মুখ্য কর্তা: যে কর্তা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করে থাকে, তাকে মুখ্য কর্তা বলে। যেমন: মেয়েরা ফুল তোলে।

ছেলেরা ফুটবল খেলছে।

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে।

Content added By

প্রযোজক কর্তা

1.2k

প্রযোজক কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যকে কোনো কাজে নিয়োজিত করে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন

Content added By

প্রযোজ্য কর্তা

1.1k

প্রযোজ্য কর্তা: মূল কর্তা যখন অন্যের মাধ্যমে ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে। যেমন: রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

শিক্ষক ছাত্রদের বাংলা পড়াচ্ছেন।

Content added By

ব্যতিহার কর্তা

1.7k

ব্যতিহার কর্তা: কোনো বাক্যে যে দুটো কর্তা একত্রে এক জাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে।

যেমন: বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খায়।

বাজায়-রাজায় লড়াই, উলুখাগড়ার প্রাণান্ত।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কর্মবাচ্যের কর্তা

1.3k

কর্মবাচ্যের কর্তা বলতে সেই বাক্যকে বোঝায় যেখানে কর্মপদ প্রধান এবং কর্তা গৌণ।

কর্মবাচ্যের কর্তা (কর্মপদের প্রাধান্য):

পুলিশ দ্বারা চোর ধৃত হয়েছে ।

Content added By

ভাববাচ্যের কর্তা

1.2k

ভাববাচ্যের কর্তা (ক্রিয়ার প্রাধান্য):

আমার যাওয়া হবে না।

Content added By

কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা

1k

কর্ম-কর্তৃবাচ্যের কর্তা (বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয়):

বাঁশি বাজে। কলমটা লেখে ভাল।

Content added By

কর্ম কারক

2.4k

কর্মকারক

যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকেই কর্ম কারক বলে। ক্রিয়ার বিষয়কে কর্ম বলে।

কর্মকারক ২ প্রকার। যথা:

ক. মুখ্য কর্ম

খ. গৌণ কর্ম।

সাধারণত মুখ্য কর্মকারকে বিভক্তি হয় না, তবে গৌণ কর্মকারকে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হয়। মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক এবং গৌণ কর্ম প্রাণীবাচক হয়। যেমন:

বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম)

একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।

ক্রিয়াকে 'কি বা কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটাই কর্মকারক। যেমন: নাসিমা ফুল তুলছে। এখানে যদি প্রশ্ন করা হয়, নাসিমা কি তুলছে? তাহলে উত্তর পাই- ফুল। সুতরাং, 'ফুল' হলো কর্মকারক।

অসহায়কে সাহায্য করো।

শিক্ষককে জানাও।

সে রোজ সকালে এক প্লেট ভাত খায়।

বেগম রোকেয়া সমাজের নানা রকম অন্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে গেছেন।

কর্মকারকের প্রকারভেদ। যথা:

ক. সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: প্রিয়া ফুল তুলছে।

খ. প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।

গ. সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

ঘ. উদ্দেশ্য ও বিধেয় কর্ম: দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুদ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

তোমাকে সেদিন দেখেছিলাম

তোমাকে আজই যেতে হবে

বাবাকে বড় ভয় করে

তোমাকে অনেক কথা শুনতে হবে

কর্মকারকে শূণন্য
করণকারকে শূন্য
সম্প্রদানকারকে শূন্য
অধিকরণকারকে শূন্য

সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম

1.1k

সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম: প্রিয়া ফুল তুলছে।

Content added By

প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম

1.2k

প্রযোজক ক্রিয়ার কর্ম: ছেলেটিকে বিছানায় শোয়াও।

Content added By

সমধাতুজ কর্ম

1.2k

সমধাতুজ কর্ম: খুব এক ঘুম ঘুমিয়েছি।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সে বই পড়ছে
সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
সে ঘুমিয়ে আছে
সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না

উদ্দেশ্য ও বিধেয়

1.1k

উদ্দেশ্য ও বিধেয় কর্ম: দুধকে (উদ্দেশ্য কর্ম) মোরা দুদ্ধ (বিধেয় কর্ম) বলি, হলুদকে (উদ্দেশ্য কর্ম) বলি হরিদ্রা (বিধেয় কর্ম)।

Content added By

করণ কারক

2.1k

করণ কারকঃ

'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। কর্তা যা দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। যার দ্বারা বাযে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ, কারক বলে। এ কারকে সাধারণত 'দ্বারা', 'দিয়ে', 'কর্তৃক' ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। যেমন:

নীরা কলম দিয়ে লেখে (উপকরণ- কলম)।

'জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়।' (উপায়- সাধনা) ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।

চাষিরা ধারালো কাস্তে দিয়ে ধান কাটছে।

ক্রিয়াপদকে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তাই করণ কারক। যেমন: ফুলে ফুলে ঘর ভরেছে। প্রদত্ত বাক্যের ক্রিয়াকে যদি প্রশ্ন করা হয় 'কীসের দ্বারা ঘর ভরেছে?' তাহলে উত্তর পাই 'ফুল'। সুতরাং 'ফুল' করণ কারক এবং এর সাথে ৭মী বিভক্তি (ফুল+এ) যুক্ত হওয়ায় এটি করণে ৭মী বিভক্তি।

করণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

বিভক্তি

উদাহরণ

১মা (শূন্য বা অ)ছাত্ররা বল খেলে (অকর্মক ক্রিয়া)।
১মা (শূন্য বা অ)ডাকাতেরা গৃহস্বামীর মাথায় লাঠি মেরেছে।
(সকর্মক ক্রিয়া)।
৩য়া (দ্বারা)লাঙ্গল দ্বারা জমি চাষ করা হয়।
৩য়া (দিয়া)মন দিয়া কর সবে বিদ্যা উপার্জন।
করণে ৬ষ্ঠীযখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন।
৭মী (এ)শিকারি বিড়াল গোঁফে চেনা যায়।
৭মী (তে)

এত শঠতা, এত যে ব্যথা,

তবু যেন মধুতে মাখা।

লোকটা জাতিতে বৈষ্ণব।
৭মী (য়)চেষ্টায় সব হয়।
সুতায় কাপড় হয় না।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ছাত্ররা বল খেলে
ডাক্তার ডাক
হামিদ বই পড়ে
বৃষ্টি পড়ে
সালমান বাড়ি যায়
ঘোড়াকে চাবুক মার
এ দেহে প্রান নেই
এ কলমে ভালো লেখা হয়

ঘোড়াকে "চাবুক" মার

"ডাক্তার" ডাক

গাড়ি 'স্টেশন" ছেড়েছে

"মুষলধারে" বৃষ্টি পড়ছে

সম্প্রদান কারক

1.6k

সম্প্রদান কারক

যাকে স্বত্ব ত্যাগ করে দান, অর্চনা, সাহায্য ইত্যাদি করা হয়, তাকে (সংস্কৃত নিয়মে) সম্প্রদান কারক বলে। বস্তু নয়, ব্যক্তিই সম্প্রদান কারক। যেমন: ভিখারীকে ভিক্ষা দাও।

ক্রিয়ার সাথে কাকে (দান) দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে যাকে পাওয়া যায়, তাই সম্প্রদান কারক।

সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

বিভক্তি

উদাহরণ

৪র্থী (কে)ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও। (স্বত্ব ত্যাগ করে না দিলে কর্মকারক হবে। যেমন: ধোপাকে কাপড় দাও)।
৬ষ্ঠী (র)তোমার পূজার ছলে তোমায় ভুলেই থাকি।
৭মী (এ)সৎপাত্রে কন্যা দান।
সমিতিতে চাঁদা দাও।
৭মী (এ)অন্ধজনে দেহ আলো, মৃতজনে দেহ প্রাণ
নিমিত্তার্থে 'কে' বিভক্তি যুক্ত হলে, সেখানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন: 'বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।'
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ভিক্ষা দাও দেখিলে ভিক্ষুক
ভিক্ষা দাও দুয়ারে ভিক্ষুক
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
কোনোটিই নয়
ভিক্ষা দাও দেখিলে ভিক্ষুক ।
ভিক্ষা দাও দুয়ারে ভিক্ষুক ।
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
কোনোটিই নয়
ভিক্ষা দাও দেখিলে ভিক্ষুক ।
ভিক্ষা দাও দুয়ারে ভিক্ষুক।
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
কোনোটিই নয়।
ভিক্ষা দাও দেখিলে ভিক্ষুক
ভিক্ষা দাও দুয়ারে ভিক্ষুক
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেয়
ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও
ভিক্ষুক ভিক্ষা পায়

অপাদান কারক

2.4k

অপাদান কারক :

যা থেকে কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত ও রক্ষিত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে। যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। যেমন: বিপদে মোরে রক্ষা করো। এখানে যদি প্রশ্ন করা হয়, কোথা থেকে রক্ষা করো? উত্তর পাই- বিপদ থেকে। তাই, এখানে 'বিপদে' অপাদান কারক।

ক্রিয়াকে 'কোথা হতে', 'কি হতে' বা 'কিসের হতে' দিয়ে প্রশ্ন করলে অপাদান কারক পাওয়া যায়। যেমন:

বিচ্যুতগাছ থেকে পাতা পড়ে। মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়ে।
গৃহীতদুধ থেকে দই হয়। শুক্তি থেকে মুক্তো মেলে।
জাতখেজুর রসে গুড় হয়। জমি থেকে ফসল পাই।
বিরতপাপে বিরত হও।
দূরীভূতদেশ থেকে পঙ্গপাল চলে গেছে।
রক্ষিতবিপদ থেকে বাঁচাও।
আরম্ভসোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু।
ভীতবাঘকে ভয় পায় না কে?

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তি ছাড়াও হইতে, হতে, থেকে, দিয়া, দিয়ে ইত্যাদি অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। যেমন: কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙে গেল।

অপাদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার:

বিভক্তি

উদাহরণ

১মা (শূন্য বা অ)বোঁটা-আলগা ফল গাছে থাকে না।
মনে পড়ে সেই জ্যৈষ্ঠের দুপুরে পাঠশালা পলায়ন।
গাড়ী স্টেশন ছাড়ে।
২য়া (কে)বাবাকে বড্ড ভয় পাই।
৬ষ্ঠী (এর)যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যা হয়।
৭মী (এ)বিপদে মোরে করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা।
তিলে তৈল হয়। লোকমুখে শুনেছি
৭মী (য়)টাকায় টাকা হয়।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কর্ম কারক
করণ কারক
অপাদান কারক
অধিকরণ কারক
বনে বাঘ আছে
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
গৃহহীনে গৃহ দাও
জিজ্ঞাসিব জনে জনে
গৃহহীনে গৃহ দাও
জিজ্ঞাসিব জনে জনে
ট্রেন স্টেশন ছেড়েছে
বনে বাঘ আছে

অধিকরণ কারক

1.7k

অধিকরণ কারক:

ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে অধিকরণ কারক বলে। যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এ কারকে সপ্তমী অর্থাৎ 'এ', 'য়', 'তে' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন:

আধার (স্থান

আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর উড়িবার ইতিহাস।

আমরা রোজ স্কুলে যাই।

বাড়িতে কেউ নেই।

কাল (সময়)

প্রভাতে উঠিল রবি লোহিত বরণ।

প্রভাতে সূর্য ওঠে।

ক্রিয়ার সাথে কোথায়/কখন/ কিসে যোগ করে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই অধিকরণ কারক। যেমন: প্রভাতে সূর্য উঠে। এখানে যদি প্রশ্ন করা হয়, কখন সূর্য উঠে? তাহলে উত্তর পাই- 'প্রভাতে'। সুতরাং, এখানে 'প্রভাতে' অধিকরণ কারক।

বাবা বাড়িতে আছেন।

বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে।

রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।

অধিকরণ কারক ৩ প্রকার। যথা:

১. কালাধিকরণ (কাল বা সময়): যেমন, প্রভাতে সূর্য ওঠে।

২. আধারাধিকরণ (স্থান বা আধার): যেমন, বনে বাঘ থাকে।

৩. ভাবাধিকরণ (ভাব বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য): যেমন, সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূর হয়।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সারারাত বৃষ্টি ছিল।
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু।
বাড়ি খেকে নদী দেখা যায়।
ভোরে সূর্য উঠে।
আমার আহারে রুচি নাই
আগামীকাল বাড়ি যাব
আকাশ মেঘে আচ্ছন্ন
কাজে অবসর নিলাম
লোকে কিনা বলে
তুমি যে আমার কবিতা
গগণে গরজে মেঘ ঘন বরষা
জলে বাষ্প হয়
জমি থেকে বাড়ি দেখা যায়
তিনি বইটি কিনে এনেছেন
লোকটি হঠাৎ লাফ দিল
ছেলেটি পরীক্ষার ফল ভালো করেছে

কালাধিকরণ

1.1k

কালাধিকরণ: যে অধিকরণে ক্রিয়ার কাল বোঝানো হয়, তাই কালাধিকরণ। যেমন: বসন্তে ফুল ফোটে।

Content added By

ভাবাধিকরণ

1.1k

ভাবাধিকরণ: যদি কোনো ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য অন্য ক্রিয়ার কোনো রূপ বা ভাবের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, তাকে ভাবাধিকরণ বলে। ভাবাধিকরণে সর্বদাই সপ্তমী বিভক্তির প্রয়োগ হয় বলে একে ভাবে সপ্তমী বলা হয়। যেমন:

কান্নায় শোক কমে। সূর্যোদয়ে অন্ধকার দূরীভূত হয়।

Content added By

আধারাধিকরণ

1k

আধারাধিকরণ: আধারাধিকরণ ৩ ভাগে বিভক্ত। যথাঃ

ক. ঐকদেশিক আধারাধিকরণ

খ. অভিব্যাপক আধারাধিকরণ

গ. বৈষয়িক আধারাধিকরণ

Content added || updated By

ঐকদেশিক আধারাধিকরণ

1.1k

ঐকদেশিক আধারাধিকরণ: বিশাল স্থানের যে কোনো অংশে ক্রিয়া সংঘটিত হলে তাকে ঐকদেশিক আধারাধিকরণ বলে।

যেমন: পুকুরে মাছ আছে। (পুকুরের যেকোনো স্থানে)

বনে বাঘ আছে। (বনের যেকোনো এক অংশে)

আকাশে চাঁদ উঠেছে। (আকাশের কোনো এক অংশে)

সামীপ্য অর্থেও ঐকদেশিক অধিকরণ হয়। যেমন:

ঘাটে নৌকা বাঁধা আছে (ঘাটের কাছে)।

দুয়ারে দাঁড়ায়ে প্রার্থী।’

ভিক্ষা দেহ তারে (দুয়ারের কাছে)।

রাজার দুয়ারে হাতি বাঁধা।

Content added By

অভিব্যাপক আধারাধিকরণ

1.1k

অভিব্যাপক আধারাধিকরণ: উদ্দিষ্ট বস্তু যদি সমগ্র আধার ব্যাপ্ত করে বিরাজমান থাকে, তবে তাকে অভিব্যাপক আধারাধিকরণ বলে। যেমন:

নদীতে পানি আছে। (নদীর সমস্ত অংশ ব্যাপ্ত করে)

তিলে তৈল আছে। (তিলের সারা অংশব্যাপী)

Content added By

বৈষয়িক আধারাধিকরণ

1.1k

বৈষয়িক আধারাধিকরণ: বিষয় বিশেষে বা কোনো বিশেষ গুণে কারো কোনো দক্ষতা বা ক্ষমতা থাকলে সেখানে বৈষয়িক আধারাধিকরণ হয়। যেমন:

সাদিয়া ইসলাম রিয়া ব্যাকরণে পণ্ডিত, কিন্তু সাহিত্যে কাঁচা।

আমাদের সেনারা সাহসে দুর্জয়, যুদ্ধে অপরাজেয়।

Content added By

সম্বন্ধ পদ

1.1k

সম্বন্ধ পদ: ক্রিয়া পদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে যে নামপদ বাক্যস্থিত অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। যেমন- মতিনের ভাই বাড়ি যাবে। এখানে 'মতিনের' সাথে 'ভাই' এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু 'যাবে' ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই।

টীকা: ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ পদের সম্বন্ধ নেই বলে সম্বন্ধ পদকে কারক বলা হয় না।

সম্বন্ধ পদের বিভক্তি:

ক. সম্বন্ধ পদে 'র' বা 'এর' বিভক্তি যুক্ত হয়ে থাকে। যথা-আমি+র = আমার (ভাই), খালিদ এর = খালিদের (বই)।

খ. সময়বাচক অর্থে সম্বন্ধ পদে কার > কের বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা- আজি+কার = আজিকার > আজকের (কাগজ)। পূর্বে+কার = পূর্বেকার (ঘটনা)।

কালি+কার = কালিকার > কালকার > কালকের (ছেলে)। কিন্তু 'কাল' শব্দের উত্তর শুধু 'এর' বিভক্তিই যুক্ত হয়। যেমন- কাল+এর কালের। বাক্য: সে কত কালের কথা।

সম্বন্ধ পদের প্রকারভেদ: সম্বন্ধ পদ বহু প্রকারের হতে পারে। যেমন:

অধিকার সম্বন্ধরাজার রাজ্য, প্রজার জমি।
জন্ম-জনক সম্বন্ধগাছের ফল, পুকুরের মাছ।
কার্যকারণ সম্বন্ধঅগ্নির উত্তাপ, রোগের কষ্ট।
উপাদান সম্বন্ধরূপার থালা, সোনার বাটি।
গুণ সম্বন্ধমধুর মিষ্টতা, নিমের তিক্ততা।
হেতু সম্বন্ধধনের অহংকার, রূপের দেমাক।
ব্যাপ্তি সম্বন্ধরোজার ছুটি, শরতের আকাশ।
ক্রম সম্বন্ধপাঁচের পৃষ্ঠা, সাতের ঘর।
অংশ সম্বন্ধহাতির দাঁত, মাথার চুল।
ব্যবসায় সম্বন্ধপাটের গুদাম, আদার ব্যাপারী।
ভগ্নাংশ সম্বন্ধএকের তিন, সাতের পাঁচ।
কৃতি সম্বন্ধনজরুলের 'অগ্নিবীণা', মাইকেলের 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
আধার-আধেয়বাটির দুধ, শিশির ওষুধ
অভেদ সম্বন্ধজ্ঞানের আলোক, দুঃখের দহন।
উপমান-উপমেয় সম্বন্ধননীর পুতুল, লোহার শরীর।
বিশেষণ সম্বন্ধসুখের দিন, যৌবনের চাঞ্চল্য।
নির্ধারণ সম্বন্ধসবার সেরা, সবার ছোট।

কারক সম্বন্ধ

কর্তৃ সম্বন্ধরাজার হুকুম।
কর্ম সম্বন্ধপ্রভুর সেবা, সাধুর দর্শন।
করণ সম্বন্ধচোখের দেখা, হাতের লাঠি।
অপাদান সম্বন্ধবাঘের ভয়, বৃষ্টির পানি।
অধিকরণ সম্বন্ধক্ষেতের ধান, দেশের লোক।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ব্যাপ্তি সম্বন্ধ
অভেদ সম্বন্ধ
কৃতি সম্বন্ধ
আধার-আধেয় সম্বন্ধ

কারক সম্বন্ধ

1.3k

সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এ কারকে শব্দের সঙ্গে 'র', 'এর', 'কার' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না। আমার জামার বোতামগুলো একটু অন্য রকম। তখনকার দিনে পায়ে হেঁটে চলতে হতো মাইলের পর মাইল।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্বে

অর্থতত্ত্বে

বাক্যতত্ত্বে

রূপতত্ত্বে

সম্বোধন পদ

1.2k

সম্বোধন পদ: 'সম্বোধন' শব্দটির অর্থ আহ্বান। যাকে সম্বোধন বা আহ্বান করে কিছু বলা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। যেমন-

ওহে মাঝি, আমাকে পার কর। সুমন, এখানে এস।

টীকা: সম্বোধন পদ বাক্যের অংশ। কিন্তু বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সাথে কোনো সম্বন্ধ থাকে না বলে সম্বোধন পদ কারক নয়।

১. অনেক সময় সম্বোধন পদের পূর্বে ওগো, ওরে, হে, অয়ি প্রভৃতি অব্যয়বাচক শব্দ বসে সম্বোধনের সূচনা করে। যেমন: 'ওগো, তোরা জয়ধ্বনি কর।' 'ওরে, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।' ‘অয়ি নিরমল উষা, কে তোমাকে নিরমিল?’

২. অনেক সময় শুধু সম্বন্ধসূচক অব্যয়টি কেবল সম্বোধন পদের কাজ করে থাকে।

৩. সম্বোধন পদের পরে অনেক সময় বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেওয়া হয়। এই ধরনের বিস্ময়সূচক চিহ্নকে সম্বোধন চিহ্নও বলা হয়ে থাকে।

টীকা: আধুনিক নিয়মে সম্বোধন চিহ্ন স্থানে কমা (,) চিহ্নের প্রয়োগই বেশি হয়। যেমন- ওরে খোকা, যাবার সময়ে একটা কথা শুনে যাস্।

Content added || updated By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...